হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বেসপাটলি দাদনপাড়, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত: বেসপাটলি দাদনপাড় এলাকার মসজিদে অনুষ্ঠিত জুমার নামাজে ইমাম জুমা মাওলানা আসগার আলী গাইন আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ও রহমত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জুমার এই খুতবায় স্থানীয় অসংখ্য মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন এবং ইমাম জুমার বক্তব্য মনোযোগসহকারে শ্রবণ করেন।
খুতবার শুরুতে মাওলানা আসগার আলী গাইন মহান আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পেশ করেন। এরপর তিনি আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত ও রহমতের কথা তুলে ধরে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, যা গুনে শেষ করা সম্ভব নয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে আমরা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের মধ্যে ডুবে আছি। শ্বাস-প্রশ্বাস, পানীয়, খাদ্য, সুস্থতা, পরিবার-পরিজন, শিক্ষা, নিরাপত্তা-এসবই আল্লাহর অশেষ রহমতের প্রকাশ।
ইমাম জুমা আরও বলেন, আল্লাহর সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো ঈমান ও ইসলাম। যদি কোনো মানুষের কাছে দুনিয়ার সব সম্পদ থাকে কিন্তু ঈমান না থাকে, তবে সেই সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না। পক্ষান্তরে, যদি কোনো ব্যক্তি দুনিয়ার দিক থেকে দরিদ্র হয় কিন্তু ঈমানদার হয়, তবে সে আখিরাতে সফলকাম হবে। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত আল্লাহর দেওয়া ঈমানের নেয়ামতকে রক্ষা করা এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বারবার তাঁর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়েছেন, যাতে বান্দারা কৃতজ্ঞ হয়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানে শুধু মুখে "আলহামদুলিল্লাহ" বলা নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নেয়ামতকে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
মাওলানা আসগার আলী গাইন আরও উল্লেখ করেন, আল্লাহর রহমত শুধু দুনিয়ার জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আখিরাতেও তাঁর রহমতের আশা রয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা গাফুর ও রাহিম-ক্ষমাশীল ও দয়ালু। বান্দা যখন তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দেন।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা প্রায়ই আল্লাহর নেয়ামতকে ভুলে যাই এবং অভাবের কথা বেশি বলি। অথচ যদি আমরা আমাদের চারপাশে তাকাই, দেখব আল্লাহ আমাদের কত নেয়ামত দিয়েছেন। তাই অভিযোগের পরিবর্তে শুকরিয়া আদায় করা উচিত। শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ তাঁর নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন-এটি পবিত্র কুরআনের ঘোষণা।
ইমাম জুমা আরও বলেন, আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম উপায় হলো দান-সদকা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ইবাদত-বন্দেগি করা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। যারা আল্লাহর রহমতের আশা রাখে, তাদের উচিত তাঁর নির্দেশ পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
তিনি মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কদর করেন, কৃতজ্ঞ থাকেন এবং তাঁর রহমত লাভের জন্য সর্বদা দুআ ও ইবাদতে রত থাকেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হওয়া উচিত নয়; বরং প্রতিটি মুমিনের উচিত তাঁর দয়ার উপর ভরসা রাখা।
জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা ইমাম জুমার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং আল্লাহর নেয়ামত ও রহমতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার প্রতিজ্ঞা করেন। স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে এই খুতবার বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচিত হতে থাকে।
আপনার কমেন্ট